টনসিল অপারেশনের পর কি খাবেন ও করনীয়

 

ঠান্ডায় গলা ব্যথার সমস্যা বেড়ে যাওয়াটাই স্বাভাবিক। একটু গলা ব্যথা হলেই সেটাকে টনসিল বলছে সবাই। কিন্তু আসলেই কি তাই? আপনার যে এই খানিকটা গলা ব্যথা, সেটার মূল কারণ কি টনসিল? চলুন জেনে নেয়া যাক বিস্তারিত তার আগে সূচিপত্র এক নজরে দেখে নেয়া যাক কি কি থাকছে।

টনসিল অপারেশনের পর কি খাবেন ও করনীয়





সূচিপত্রটনসিল অপারেশন পরে কি খাবার খেতে হবে

টনসিল কী?

আমরা যেটাকে টনসিল বলি সেটা আদতে টনসিলিটিস। টনসিল হলো আমাদের গলার একটি অংশ, যেটি অ্যান্টিবডি উৎপন্নের মাধ্যমে আমাদের মুখের মধ্যে থাকা সমস্ত জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াই করে। এটি আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধের একটি অংশ।

কিন্তু এই টনসিল কখনো কখনো সংক্রমণের শিকার হয়ে আকারে বড় হয়ে যায়। তখন এই সমস্যাটিকে টনসিলিটিস বলা হয়।

টনসিলিটিসের সমাধান কী?

আপনার টনসিলের সমস্যা বেড়ে গেলে চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করুন। চিকিৎসক নানারকম পদ্ধতিতে আপনার টনসিলের অবস্থা পরীক্ষা করে দেখতে পারেন। এ ক্ষেত্রে তিনি আপনার মুখের ভেতরের অংশটিকে দেখে স্ট্রেপটোকোকাল হয়েছে কি না, সেটা পরীক্ষা করতে পারেন। আবার রক্তকোষ পরীক্ষার মাধ্যমে আপনার টনসিলিটিস হওয়ার কারণটিকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করতে পারেন।
আপনার টনসিলের সমস্যার পেছনে যে কারণই থাকুক না কেন, সেটা পরীক্ষার পরই চিকিৎসক বলতে পারবেন যে, আপনার চিকিৎসা পদ্ধতি কেমন ও কতটা বেশি হওয়া দরকার।

টনসিলেক্টোমি কী?

টনসিল কিন্তু সংক্রমণের পর শুধু ব্যথা দেয় তা নয়, এই অবস্থায় খুব বড় রকমের কিছু হতে পারে এবং বারবার দেখা দিতে পারে। এই সমস্যা থেকে দূরে থাকতে চিকিৎসক টনসিলেক্টোমি করার পরামর্শ দিতে পারেন। এ ক্ষেত্রে যে সুবিধাগুলো পাওয়া যায়-
  •  জিহ্বা এবং গলার সংক্রমণের পরিমাণ কমে আসবে
  • ওষুধ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা কমে আসবে
  •  বারবার চিকিৎসকের সঙ্গে দেখা করার জন্য যেতে হবে না এবং
  •  সর্বোপরি আপনি খুব ভালো সময় কাটাবেন

টনসিলিটিসের ঝুঁকি কাদের বেশি?

টনসিলিটিস শিশুদের মধ্যে প্রায়ই হতে দেখা যায়। তবে দুই বছরের কমবয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা কম হয়। টনসিলের সমস্যা বেড়ে যায় ৫ থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে।

এছাড়া শিশুরা ছাড়াও জীবাণুর সংস্পর্শে বেশিরভাগ সময় থাকেন এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও টনসিলিটিসের পরিমাণ বেড়ে যায়। শীতে আমাদের শরীর শীতল হয়ে আসায় উষ্ণ থাকাকালীন যে সমস্যাগুলোর মোকাবিলা সহজেই করতে পারত, সেই ক্ষমতা কমে আসে। ফলে সেখান থেকে ঠান্ডাজনিত সমস্যা এবং ঠান্ডা থেকে টনসিলাইটিসের মতো সমস্যা তৈরি হয়।

টনসিলে ইনফেকশন

টনসিল ইনফেকশনের কথা আমরা প্রায়ই শুনে থাকি। শিশুদের এটি সাধারণ সমস্যা। এ রোগে শিশু ঘনঘন গলাব্যথা ও জ্বরে ভোগে, ঢোক গিলতে বা খাবার খেতে কষ্ট হয় এবং শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে। এ সমস্যা সামান্য থেকে অতিমাত্রায় হতে পারে।
রোগী আক্রান্ত হতে থাকলে শারীরিক ও মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। এ দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতার মধ্যে দিন কাটানোর ফলে বাচ্চার স্বাভাবিক, স্বতঃস্ফূর্ত ও হাসি-খুশি ভাব কমে যেতে থাকে।

টনসিল এবং এডেনয়েডের কাজ

টনসিল এক জাতীয় লিম্ফয়েড টিস্যু। গলার ভেতরে জিহ্বার পেছনে দু’পাশে দুটি টনসিল থাকে। নাকের পেছনের দিকে থাকে এডেনয়েড। টনসিল, এডেনয়েড এবং গলার পেছনের টিস্যু মিলে তৈরি হয় ওয়ালডেয়ার’স রিং। এগুলোকে পেটের ভেতরের এপেনডিক্সের সঙ্গে তুলনা করা যায়। গঠনগত দিক থেকে টনসিল, এডেনয়েড ও এপেনডিক্সের মধ্যে তেমন কোনো পার্থক্য নেই। লিম্ফয়েড টিস্যুর ধর্মানুযায়ী এগুলো ছোটবেলায় বড় থাকে। বাচ্চা যখন ঘনঘন সর্দি-কাশিতে ভোগে তখন এগুলো আকারে আরও বড় হতে থাকে।


বাচ্চা অসুখ-বিসুখে না ভুগলে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এগুলো ক্রমান্বয়ে সংকুচিত হওয়ার কথা এবং ১২ থেকে ১৪ বছরের মধ্যে টনসিল ও এডেনয়েডের আর কোনো সমস্যা সৃষ্টি করার কথা নয়। উপযুক্ত এবং পর্যাপ্ত চিকিৎসা করা না হলে এ সমস্যাগুলো বয়সকাল পর্যন্ত চলতে থাকে।
টনসিল ও এডেনয়েড আমাদের জন্মের আগে রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরির সঙ্গে জড়িত। জন্মের পরপর এগুলোর প্রয়োজনীয়তা কমে যেতে থাকে। দু’বছর বয়সের পর অল্প মাত্রায় স্থানীয় রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার সঙ্গে জড়িত থাকা ভিন্ন এর কোনো কাজই নেই।

মনে রাখতে হবে, বারবার ইনফেকশনের ফলে যদি অঙ্গ ক্রনিকালি ইনফেকটেড হয়ে যায় তখন রোগপ্রতিরোধ গড়ার পরিবর্তে এগুলো রোগজীবাণুর ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হতে থাকে। প্রায়ই প্রশ্ন ওঠে, টনসিল বা এডেনয়েডের অপারেশন হলে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা কমে যেতে পারে- এ কথাটি সম্পূর্ণই ভিত্তিহীন। দু’বছর বয়সের পর রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থায় এগুলোর গুরুত্ব নেই বললেই চলে।
টনসিল ইনফেকশনের উপসর্গ

ঘনঘন গলাব্যথা ও সঙ্গে জ্বর। সাধারণত গলাব্যথার সঙ্গে জ্বর থাকে, যা অনেক সময় ১০৩ থেকে ১০৪ ডিগ্রি পর্যন্ত হতে পারে। গলাব্যথার কারণে বাচ্চা খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে দেয়। অনেক সময় বাচ্চার দেহে পানিশূন্যতা ও ক্যালোরির অভাব দেখা দিতে পারে।


ঘনঘন টনসিলে ইনফেকশন হলে এটি আকারে বড় হয়ে যায় এবং শ্বাসের রাস্তা ও খাদ্য গ্রহণের পথ বাধাগ্রস্ত হয়। এর ফলে বাচ্চা খেতে অস্বস্তিবোধ করে। রাতে ঘুমের মধ্যে বাচ্চা হা করে শব্দ করে ঘুমায় এবং অনেক সময় দম বন্ধ হয়ে যায় বা দম নেয়ার জন্য বাচ্চা ছটফট করে। একে আমরা অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ এপনিয়া সিনড্রোম বলে থাকি। এটি সাধারণত এডেনয়েডের কারণে হয়। টনসিল অনেক বড় হলেও এ সমস্যা হতে পারে। অনেক সময় এডেনেয়ড ও টনসিল একসঙ্গে বড় থাকতে পারে।

এ সমস্যা হলে বাচ্চা ঘুমানোর সঙ্গে সঙ্গে নাক ডাকতে শুরু করে। নাক ডাকা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে, শ্বাসের রাস্তা ক্রমাগত ছোট হতে হতে যখন সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায় তখন বাচ্চা শ্বাস নেয়া সম্পূর্ণ বন্ধ করে রাখে। এ পর্যায়ে শরীরের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ। এক্ষেত্রে দেহে অক্সিজেনের মাত্রা দ্রুত কমতে থাকে এবং কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই শরীর ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে উপনীত হবে। এ সময়ে শরীরের ভেতরের জীবন বাঁচানোর প্রক্রিয়াগুলো (রিরিক্স মেকানিজম) সক্রিয় হয়ে ওঠে। শরীর বুঝতে পারে এভাবে অক্সিজেন কমতে থাকলে কিছুক্ষণের মধ্যেই মস্তিষ্কের মারাত্মক ক্ষতি হবে। ফলে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই এ প্রক্রিয়াগুলো সবল হয়ে পড়ে এবং বাচ্চার ঘুম ভেঙে যায়। বাচ্চা ধড়ফড় করে উঠে বসে এবং আবার শ্বাস নিতে শুরু করে।


যেহেতু শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা অনেক কম থাকে সেহেতু মস্তিষ্কের কার্যকারিতা দুর্বল অবস্থায় থাকে। বাচ্চা কয়েকবার শ্বাস নেয়ার পরই আবার শান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। এ অবস্থা সারা রাত ধরে চলতে থাকে। এভাবে অক্সিজেনের স্বল্পতার জন্য বাচ্চার শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ক্রমান্বয়ে বাধাগ্রস্ত হয়। বাচ্চা খিটখিটে মেজাজের হয়ে যায়, পড়াশোনায় অমনোযোগী হয়, অবাধ্য হয় ও মেধা কমে যেতে থাকে। স্কুলের কর্মকাণ্ডে ধীরে ধীরে দুর্বল হতে থাকে।

অনেকের ধারণা, টনসিল বা এডেনয়েডের সমস্যা বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কমে যায়। এ কথা সত্য। লিম্ফয়েড টিস্যুর ধর্মানুযায়ী বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এগুলো ছোট হতে থাকে এবং কর্মক্ষমতা হারায় কিন্তু এখানে জানা প্রয়োজন, শারীরিক বৃদ্ধি জীবনের প্রথম দিকেই বেশি থাকে। জন্মের পরপরই বাচ্চার যে ওজন থাকে তা পাঁচ মাসের মাথায় দ্বিগুণ এবং এক বছরের মাথায় তিনগুণ হয়ে যায়। ৭০ কেজি ওজনের একজন মানুষের ওজন ৫ মাসে ১৪০ কেজি এবং এক বছরে ২১০ কেজি হওয়ার সমতুল্য।

এ থেকেই বোঝা যায়, বাচ্চা কী রকম দ্রুতগতিতে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হচ্ছে। যতদিন যেতে থাকে বাচ্চার বৃদ্ধির মাত্রা ততই কমতে থাকে। ১২ থেকে ১৪ বছরের মাথায় বাচ্চার বৃদ্ধি প্রায় পূর্ণতা লাভ করে। আরও ৩ থেকে ৪ বছর অল্পমাত্রায় আমাদের শরীরের বৃদ্ধি পায়। এরপর ১৭ থেকে ১৮ বছরের শরীরে আর কোনো প্রয়োজনীয় বৃদ্ধিপ্রাপ্তি হয় না বললেই চলে। ১৭ থেকে ১৮ বছরের পর যে ওজন বাড়ে তা মূলত চর্বি বা ফ্যাট, যা শরীরের কোনো উন্নতি তো করেই না বরং ক্ষতি বা শরীরের কিছু অংশের বৃদ্ধি সাধন এই ১৭ থেকে ১৮ বছরের অনেক আগেই পূর্ণতা লাভ করে।

আমাদের মস্তিষ্কের এবং স্নায়ুতন্ত্রের বৃদ্ধি চার বছরের মাথায় সম্পূর্ণ হয়ে যায়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এর একবিন্দুও কার্যকারিতা বৃদ্ধি হয় না। কোনো বাচ্চা যদি জীবনের প্রাথমিক অবস্থায় ঘনঘন অসুস্থ হতে থাকে তাহলে বাচ্চার শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধি এবং বিকাশ অবশ্যই বাধাগ্রস্ত হবে।

আধুনিক এ যুগে বাচ্চা ১৩ থেকে ১৪ বছর বয়সে নিজ থেকে ভালো হয়ে যাবে এবং শারীরিক বৃদ্ধি সঠিকভাবে হবে না। এ যুক্তি মেনে নেয়া যায় না। বাচ্চার কিছু অসুখ-বিসুখ হবেই। যে সমস্যা প্রতিরোধ করা যায় বা যেগুলোর মাত্রা কমিয়ে দেয়া যায় সেগুলোর অবশ্যই চেষ্টা করা উচিত। এ অবস্থায় বাচ্চার কোনো অবস্থাতেই দৈহিক ও মানসিক বিকাশের পূর্ণতা লাভ করবে না।

এডেনয়েড গ্রন্থি বড় হলে বাচ্চা ঘনঘন সর্দি-কাশি ও ঠাণ্ডায় ভোগে এবং ঠাণ্ডা সহজে সারতে চায় না। কোনো কোনো ক্ষেত্রে বাচ্চা শ্বাসকষ্ট এবং রাতের বেলায় কাশিতে ভোগে।গলা বা নাকের প্রদাহ কানের ভেতর চলে যায়। ফলে কানের মধ্যে ঘনঘন ব্যথা হয় এবং কানে কম শোনে। অনেক সময় ব্যথা ছাড়াও কানের মধ্যে পুঁজ বা পানি জমতে পারে এবং বাচ্চা কানে কম শুনতে পারে।

কানের ভেতর ঘনঘন ইনফেকশন বা কানের ভেতর লম্বা সময় পুঁজ পানি জমা থাকার ফলে কানের পর্দাগুলো ক্ষতিসাধিত হয় এবং একসময় পর্দা সম্পূর্ণরূপে ছিদ্র হয়ে যায়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কান পাকা রোগ এবং শ্রবণের সমস্যা এভাবে শুরু হয়ে থাকে। খুব কম ক্ষেত্রে টনসিলে ঘনঘন ইনফেকশন থেকে বাতজ্বর (রিউম্যাটিক ফিভার) হতে পরে। এ রোগের ফলে হার্টের এবং কিডনির মারাত্মক ক্ষতিসাধিত হতে পারে। অল্প বয়সে হার্টের ভাল্ব নষ্ট হয়ে যাওয়া বা কিডনি নষ্ট হয়ে যাওয়ার (কিডনি ফেইলিওরের) অন্যতম প্রধান কারণ বাতজ্বর, যা টনসিলে ইনফেকশন থেকেই হয়ে থাকে।

টনসিল ও এডেনয়েড অপারেশন

বারবার ইনফেকশনের কারণে টনসিল বা এডেনয়েডের অপারেশন করা দরকার। গলার পেছন দিকে থাকে টনসিল আর নাকের পেছন দিকে এডেনয়েড। এগুলো ফেলে দিলে শরীরের ওপর কোনো প্রভাব পড়ে না। বরং এডেনয়েড ফেলে দিলে কানের ইনফেকশন কম হয়।

অপারেশনে সম্ভাব্য জটিলতা

রক্তক্ষরণ : শতকরা একজনের অপারেশনের পর রক্তক্ষরণ হতে পরে। এটি সাধারণত হাসপাতালে থাকা অবস্থায় হয় এবং এজন্য রোগীকে আবার অপারেশন থিয়েটারে নেয়ার দরকার হতে পারে। কোনো রোগীর ক্ষেত্রে অপারেশন করার ১০ দিনের মধ্যে রক্তক্ষরণ হতে পারে, যা কখনও মারাত্মক রূপ নেয় এবং রোগীর শিরায় এন্টিবায়োটিক ইনজেকশন দিতে হতে পারে।

ব্যথা : গলাব্যথা হওয়া স্বাভাবিক। এটি ৭ থেকে ১০ দিন পর্যন্ত থাকতে পারে। অতিরিক্ত গলাব্যথা হওয়া বিরল।

কানে ব্যথা : এটি স্বাভাবিক। সাধারণত এটি রেফার্ড পেইন অর্থাৎ গলায় অপারেশনের জন্যই কানে ব্যথা অনুভূত হয়। সাধারণত এ ব্যথা কানের কোনো ইনফেকশনের জন্য হয় না।

ঢোক গিলতে অসুবিধা : এটি স্বাভাবিক এবং কয়েক দিন থাকে। খাবার কিছুক্ষণ আগে ব্যথার ওষুধ নিয়ে ব্যথা কমে যাওয়ার পর স্বাভাবিক খাবার খেলে সমস্যাটি দ্রুত সারে।

ইনফেকশন : অপারেশন পর কাঁচা ঘা থাকে ১০ থেকে ১৪ দিন। প্রথম কয়েক দিনে তাই এ কাঁচা ঘা-এ কোনো ইনফেকশন হতে পারে। ঘনঘন গড়গড়া করলে গলা পরিষ্কার থাকবে। নিয়মিত স্বাভাবিক খাবার খেলেও গলার ভেতর ময়লা জমতে পারে না। প্রতি ঘণ্টায় অন্তত একবার গড়গড়া করবেন। শুধু মাত্র তরল খাবার না খেয়ে ঠাণ্ডা ও নরম সব ধরনের খাবারই খাবেন।

দাঁতের ক্ষতি : অপারেশনের সময় মুখ হা করিয়ে রাখার জন্য এক ধরনের যন্ত্র ব্যবহার করতে হয়, যা সামনের দাঁতগুলোর ওপর চাপ প্রয়োগ করে থাকে। কারও যদি কৃত্রিম বা আলগা দাঁত থাকে তাহলে আপনার ডাক্তারকে অবহিত করুন এবং অপারেশনের আগে অজ্ঞানকারী ডাক্তারকেও জানাবেন। কখনও বা নড়বড়ে দাঁত নিরাপত্তার জন্যই অপসারণ করতে হতে পারে।

অপারেশনের পর করনীয়

  1. অধিকাংশ রোগী অপারেশনের পরদিনই বাড়ি যেতে পারে।
  2. নির্দেশমতো ওষুধ গ্রহণ করুন, ব্যথা উপশমের জন্য কমপক্ষে ৭ থেকে ৮ দিন নিয়মিত ব্যথার ওষুধ গ্রহণ করুন। ব্যথা বাড়ার জন্য অপেক্ষা করবেন না। কারণ ওষুধ নেয়ার পরও ব্যথা কমতে কমপক্ষে আধা ঘণ্টা সময় লাগে।
  3. ধূমপান করবেন না, উত্তেজক পানীয় পরিহার করুন।
  4. স্বাভাবিক খাবার খাবেন। কেবল নরম খাবার নয়- তবে ঝালজাতীয় খাবার না খাওয়াই ভালো।
  5.  যদি রক্তক্ষরণ হয়, বরফ পানি দিয়ে গড়গড়া করুন এবং কুলি করুন। রক্তপাত বন্ধ না হলে হাসপাতালে চলে আসুন। অথবা ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
  6.  অপারেশনের সাত দিন পর অবশ্যই বিশেষজ্ঞকে দেখানো উচিত।

টনসিল অপারেশন করে কি করা যাবে না

শক্ত খাবার না খাওয়া: টনসিলাইটিসের সময়ে শক্ত খাবার বর্জন করুন। এ সময় চিপস, ক্র্যাকার্স, টোস্ট, আপেল, গাজর এসব খাওয়া পীড়াদায়ক হতে পারে।

লবণ পানি দিয়ে কুলকুচা করা: এক গ্লাস গরম পানিতে চামচের চারভাগের এক ভাগ লবণ নিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিন। এরপর সেই পানি দিয়ে গার্গল বা কুলকুচা করুন। এতে টনসিলাইটিসের ব্যথা কমবে। দিনে কয়েকবার এই কুলকুচা করলে উপকার পাবেন। শিশুদের এরকম কুলকুচা না করাই ভালো। কারণ তাতে লবণ পানির কারণে শ্বাস আটকে যেতে পারে তাদের।

ঘরের আর্দ্রতা বাড়াতে হবে: ঘরের গরম পরিবেশ টনসিলাইটিসের জন্য দায়ী। এক্ষেত্রে হিউমিডিফায়ার ডিভাইস ব্যবহার করা যেতে পারে। যাদের এই যন্ত্র কেনার সামর্থ্য নেই, তারা গরম পানিতে গোসল করতে পারেন।

জোরে কথা বলা পরিহার করুন: অনেকে টনসিলাইটিসের কারণে গলার অস্বস্তি দূর করতে জোরে কথা বলা বা কাশি দেয়ার চেষ্টা করেন। এতে উল্টো পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়। তাই সে সময় কথা কম বলার চেষ্টা করে গলাকে বিশ্রাম দেয়া উচিত। আর কথা বলতে খুব সমস্যা হলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

প্রচুর বিশ্রাম নিন: যাদের টনসিলাইটিসের সমস্যা আছে, তাদের প্রচুর বিশ্রাম নেয়া উচিত। কারণ বিশ্রামের মাধ্যমেই ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাসের সংক্রমণ এড়ানো শরীর লড়াই করতে পারে।

কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন?: টনসিলাইটিসের কারণে যদি গলা ব্যথা দুই দিনের বেশি থাকে, কোনো কিছু খেতে বা শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, জ্বর আসে বা বাড়ে কমে, খুব দুর্বল বা ক্লান্তি অনুভূত হয়, তাহলে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

শিশুদের টনসিলাইটিস হলে: টনসিলাইটিসে আক্রান্ত কেউ আশেপাশে থাকলে, শিশুকে তার কাছ থেকে দূরে রাখুন, কারণ এটি সংক্রামক। আর শিশুদের এই সমস্যা কখনো দেখা দিলে ওই সময় তাকে প্রচুর তরল পানীয় পান করতে দেয়া ও বিশ্রামে রাখা জরুরি। শিশু গলা ব্যথার কথা বললে তাকে প্যারাসিটামল খাওয়াতে পারেন।

টনসিল অপারেশন পরে কি খাবার খেতে হবে

ব্লুবেরি, স্ট্রবেরি, ব্ল্যাকবেরি, রাসবেরি, আঙুর ও ডালিমে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। এছাড়া বেরিতে প্রচুর ভিটামিন সি পাবেন। গবেষণায় দেখা গেছে, ভিটামিন সি কোলাজেন ও সফট টিস্যু মেরামতে সহায়ক। তাই টনসিল অপারেশন পরে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার খেলে ক্ষতস্থান দ্রুত সেরে ওঠে। এবং আরো অনেক ধরনের আছে খাবার যেমন:
জেলি বা জ্যাম দিয়ে ১ পিস পাউরুটি (লাল আটার), ডিমের সাদা অংশ ১টা, কলা ১টা ও ননিবিহীন দুধ ১ গ্লাস।নাশতার পর,অ্যামন্ড ৩০ গ্রাম,গাজর ১ বাটি,দুপুরের খাবার,নরম ভাত (ঢেঁকি ছাঁটা চালের) ১ কাপ,ডাল ১ কাপ,সবজি ১ বাটি,মাছ/মুরগি (চামড়া ছাড়া) ১ টুকরা।বিকেলের নাশতা,ননিবিহীন দুধ বা দই দিয়ে,ওটস ১ বাটি,তিসি ১ চা চামচ,গ্রিন-টি ১ কাপ।রাতের খাবার,মিষ্টি আলু সিদ্ধ ১টা,ডাল ১ কাপ,আপেল বা কমলা যেকোনো, দেশি ফল ১টা।রাতে ঘুমানোর আগে
চিকেন স্যুপ ১ কাপ।

টনসিল অপারেশন পরে এন্টিবায়টিক ওষুধ বাংলাদেশ

  1. Cefaclor 250/500mg
  2. capsul cefixime200/400mg
  3. roxithromycin150/300mg
অবশ্যই বিশেষজ্ঞ একজন ডাক্তার দ্বারা পরামর্শ নিয়ে তারপর এই ওষুধগুলো সেবন করতে হবে।
আশা করছি আমাদের পোস্টটি পড়ে টনসিল সম্পর্কে ভালো ধারণা ও বিস্তারিত জানতে পেরেছেন। ভালো লাগলে শেয়ার করবেন বন্ধুদের মাঝে ধন্যবাদ।
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url