[৪টি] বৈশাখী মেলা অনুচ্ছেদ (২০২৩ আপডেট)

বৈশাখী মেলা অনুচ্ছেদ, বৈশাখী মেলা অনুচ্ছেদ রচনা, (বৈশাখী মেলা অনুচ্ছেদ for Class 1, 2, 3, 4, 5, 6, 7, 8, 9, 10) (বৈশাখী মেলা অনুচ্ছেদ ১ম, ২য়, ৩য়, ৪র্থ, ৫ম, ৬ষ্ঠ, ৭ম, ৮ম, ৯ম, ১০ম শ্রেণি) (বৈশাখী মেলা অনুচ্ছেদ pdf, বাংলা, লিখি, 100 শব্দ, লিখন, ২০২৩, ক্লাস ১০, ssc, hsc, jsc)

[৪টি] বৈশাখী মেলা অনুচ্ছেদ (২০২২ আপডেট)

"বৈশাখী মেলা অনুচ্ছেদ"

বাংলার ঘরে ঘরে আজ পান্তা ও ইলিশ খাওয়ার আমেজ। বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে বৈশাখ মাসের প্রথম দিনে দেশের শহর ও গ্রামের বিভিন্ন স্থানে বৈশাখী মেলা বসে। এ মেলা অনুষ্ঠানের নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নেই; কোথাও এক দিন, কোথাও এক সপ্তাহ, আবার কোথাও মাসব্যাপী বৈশাখী মেলা চলে। নতুন বছরে মানুষের আনন্দ-অনুভূতি প্রকাশের একটা উপলক্ষ এই বৈশাখী মেলা। মেলায় আগত পরিচিতজনেরা পরস্পরের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। বিভিন্ন ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও লোক-উৎসবের মাধ্যমে এই মিলনমেলা আনন্দমুখর হয়ে ওঠে। বলীখেলা, ঘোড়দৌড়, লাঠিখেলা, হাডুডু প্রভৃতি ক্রীড়ানুষ্ঠান বৈশাখী মেলাকে আকর্ষণীয় করে তোলে। মেলা উপলক্ষে নানা ধরনের লোকগানের আসর বসে। সাধারণত গ্রামের হাটে, বাজারে, নদীর তীরে বা মন্দির প্রাঙ্গণে খোলা আকাশের নিচে বৈশাখী মেলার আয়োজন করা হয়। মেলায় যেসব পণ্য বিক্রি হয়, এর মধ্যে বিভিন্ন ধরনের হস্তশিল্প ও কুটিরশিল্পের পরিমাণ বেশি। বৈশাখী মেলায় গিয়ে তালপাতায় তৈরি হাতপাখা কেনেন না এমন লোকের সংখ্যা খুব কম। বিভিন্ন ধরনের মুখরোচক হালকা খাবার ও মিষ্টান্ন মেলার আকর্ষণ বাড়ায়।

"বৈশাখী মেলা অনুচ্ছেদ (Class 10)"

নববর্ষ উপলক্ষ্যে বৈশাখ মাসের প্রথম দিনেই দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামের বিভিন্ন স্থানে এ মেলা বসে। এ মেলা চলার নির্দিষ্ট কোনো সময় নেই। এক দিন থেকে শুরু করে মাসব্যাপী এ মেলা চলতে থাকে। নতুন বছরে মানুষের আনন্দ-অনুভূতির প্রকাশ ঘটে বৈশাখী মেলার মাধ্যমে। এটা বাঙালি সংস্কৃতির ঐতিহ্য হিসেবে প্রচলিত রয়েছে। আবহমানকাল থেকেই আমাদের দেশে বৈশাখী মেলা চলে আসছে। এ মেলা উপলক্ষ্যে বিভিন্ন উৎসব-অনুষ্ঠান ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক খেলাধুলার আয়োজন করা হয়। তার মধ্যে বলী খেলা, ঘোড় দৌড়, নৌকাবাইচ উল্লেখযোগ্য। বৈশাখী মেলা সাধারণত খোলা আকাশের নিচে বসে। প্রতিবছর রমনার বটমূলে বসে এ মেলার প্রভাতী আসর। এছাড়া গ্রামের হাটবাজারে, নদী তীরে, মন্দির প্রাঙ্গণে এ মেলা বসে। মেলা উপলক্ষ্যে লোকে লোকরণ্য হয়ে যায়। মানুষের মাঝে প্রাণচাঞ্চল্য লক্ষ করা যায়। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, নানা জাতের কুটিরশিল্প, খেলনাসহ হরেক রকমের পণ্যের সমাহার ঘটে এ মেলায়। এছাড়াও থাকে যাত্রা, পুতুলনাচ, নাগরদোলা, সার্কাসসহ বিনোদনমূলক বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন। বিভিন্ন ধরনের মিষ্টিজাতীয় খাবারও পাওয়া যায় মেলায়। নতুনকে বরণ করার উদ্যেশ্যেই এ মেলার আয়োজন করা হয়। কোনো রকম ধর্মীয় চেতনা এ মেলায় পরিলক্ষিত হয় না। তাই এটি একটি সর্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে। মেলা উপলক্ষ্যে জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও গোত্র নির্বিশেষে সকলের মিলনমেলায় পরিণত হয়। এতে মানুষের প্রগতিশীল চেতনা জাগ্রত হয়। তাই সব দিক থেকে এ মেলার গুরুত্ব অপরিসীম।

"বৈশাখী মেলা অনুচ্ছেদ (HSC)"

বৈশাখী মেলা নববর্ষের একটি উৎসব। নববর্ষ উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থানে এই মেলা বসে। এটি বৈশাখের প্রথম দিনে (মাসের) অনুষ্ঠিত হয়। এই মেলার কোনো নির্দিষ্ট সময় নেই। মেলা প্রতিদিন, সপ্তাহ বা মাসে অনুষ্ঠিত হয়। বৈশাখী মানুষের আনন্দ-উচ্ছ্বাসের উৎসব। এটি বাঙালি জাতীয় ঐতিহ্যের প্রতীক। অনাদিকাল থেকে এদেশে বৈশাখী মেলা হয়ে আসছে। এই উপলক্ষে বিভিন্ন উৎসব, অনুষ্ঠান এবং প্রতিযোগিতামূলক খেলাধুলা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও ঘোড়দৌড়, কুস্তি এবং বোটিং রয়েছে। বৈশাখী মেলা সাধারণত স্বর্গের নীচে দেখা যায়। রমনার নিচতলায় প্রতি বছর সকালের অধিবেশন হয়। নদীর তীরে বাজার, গ্রামের বাজার, মন্দির চত্বরেও মেলা বসে। মেলায় লাইকারণ্যে আমন্ত্রিত হয় লেক। এই মেলায় নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র, অনেক ধরনের কুটির শিল্প, খেলনা এবং অন্যান্য পণ্য রয়েছে। এছাড়াও যাত্রা, পুতুল নাচ এবং নগর দোলের মতো অনেক অনুষ্ঠান রয়েছে। মেলায় অনেক মিষ্টি পাওয়া যায়। নতুনদের স্বাগত জানাতেই এই মেলা তৈরি করা হয়েছে। এমেলা কোনো ধর্মীয় বিশ্বাসের চর্চা করেন না। এটাকে একটা পাবলিক ইভেন্ট করা হয়েছে। এটি জাতি, ধর্ম বা বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের জন্য উন্মুক্ত একটি ইভেন্ট হয়ে উঠেছে। এটা মানুষের চেতনা জাগায়। এই মেলা সব দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ।

"বৈশাখী মেলা অনুচ্ছেদ (Class 6 - 7)"

পহেলা বৈশাখ থেকে বাংলাদেশে ছোট-বড় অনেক মেলা শুরু হয়। স্থানীয় লোকেরাই এসব মেলার আয়োজন করে থাকে। মেলার স্থায়িত্বকাল সাধারণত এক থেকে সাত দিন। তবে কোথাও কোথাও এ মেলা সারা বৈশাখ মাস ধরে চলে। বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গের দিনাজপুর জেলার নেকমর্দানে পহেলা বৈশাখে যে মেলা বসে, তা হচ্ছে উত্তরবঙ্গের সবচেয়ে বড় এবং জাঁকজমকপূর্ণ মেলা। সাধারণত এ মেলা এক সপ্তাহ স্থায়ী হয়। উত্তরবঙ্গের এমন বস্তু নেই যা এ মেলায় পাওয়া যায় না। এ মেলাকে সর্বসাধারণের উপযোগী করে গড়ে তোলা হয়। নাচ, গান, নাগরদোলা প্রভৃতি মেলার হাজার বছরের ঐতিহ্য বলে বিবেচিত। মেলার দিনগুলোতে ছেলে-বুড়ো সবার মাঝেই বিরাজ করে সাজ সাজ রব। বাংলাদেশের মেলাগুলোতে খুঁজে পাওয়া যায় এদেশের হারিয়ে যাওয়া বিভিন্ন দ্রব্যসামগ্রী, যা বাঙালির ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক বলে বিবেচিত। বৈশাখী মেলা বাঙালির ইতিহাস-ঐতিহ্যের মিলনমেলা।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url