[২টি] অপসংস্কৃতি অনুচ্ছেদ (২০২৩ আপডেট)

অপসংস্কৃতি অনুচ্ছেদ, অপসংস্কৃতি অনুচ্ছেদ রচনা, (অপসংস্কৃতি অনুচ্ছেদ for Class 1, 2, 3, 4, 5, 6, 7, 8, 9, 10) (অপসংস্কৃতি অনুচ্ছেদ ১ম, ২য়, ৩য়, ৪র্থ, ৫ম, ৬ষ্ঠ, ৭ম, ৮ম, ৯ম, ১০ম শ্রেণি) (অপসংস্কৃতি অনুচ্ছেদ pdf, বাংলা, লিখি, 100 - 150 শব্দ, লিখন, ২০২৩, ক্লাস ১০, ssc, hsc, jsc)

[২টি] অপসংস্কৃতি অনুচ্ছেদ (২০২২ আপডেট)

অপসংস্কৃতি অনুচ্ছেদ

জীবনের সাথে সংস্কৃতির সম্পর্ক; অপসংস্কৃতির উৎস; জাতীয় জীবনে অপসংস্কৃতির অশনি সংকেত; অপসংস্কৃতি ও আমাদের যুবসমাজ। সমগ্র জাতির চিন্তাধারা, ভাবধারা ও কর্মধারার গৌরবময় প্রতিচ্ছবিই হল তার সংস্কৃতি। মানবীয় আচার-পদ্ধতি, শিক্ষাদীক্ষা, মানসিক উন্নতি, পারিপার্শ্বিকতার প্রভাব- এ সবের ধারা-সমন্বয়ে সৃষ্ট এক অপূর্ব জীবনধারাই হচ্ছে ‘সংস্কৃতি’। সংস্কৃতির মূল কথা হল নিজেকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করে গড়ে তােলা এবং অপরের নিকট নিজেকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা। প্রেম ও সৌন্দর্য সংস্কৃতির প্রধান আশ্রয়। এ আশ্রয় থেকে বিচ্যুত হলে সংস্কৃতি ধ্বংস হয়ে যায় এবং মানুষ অপসংস্কৃতির দিকে ধাবিত হয়। শিক্ষা ও সভ্যতার অবনতি ঘটিয়ে যে সংস্কৃতি মানুষকে সুন্দর থেকে দূরে সরিয়ে দেয় তাই অপসংস্কৃতি। সংস্কৃতির বিপরীত হল অপসংস্কৃতি। অপসংস্কৃতি জাতির এক মানসিক ব্যাধি। অপসংস্কৃতি মানুষকে কলুষিত করে এবং জীবনের সৌন্দর্যবিকাশকে স্তব্ধ করে দিয়ে শ্রীহীনতার দিকে ঠেলে দেয়। বর্তমানে আমাদের দেশে সংস্কৃতির অবক্ষয় বা অপসংস্কৃতি দিনে দিনে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সৎকার্য ও সৎচিন্তার মধ্য দিয়ে প্রকৃত ধর্মকার্য আজ অনুপস্থিত, ধর্মের নামে লােক-দেখানাে কিছু আচার-অনুষ্ঠানের প্রাধান্য লক্ষ্যের চেয়ে উপলক্ষকে বড় করে তুলেছে। এছাড়া, শিক্ষার নামে কুশিক্ষা, সমাজসেবার নামে দলাদলি, সঙ্গীতের নামে সঙ্গীতহীন কতক হৈচৈ এবং বেশভূষার নামে হাস্যকর কিছু অনুকৃতি সাংস্কৃতিক জীবনে গ্লানি ও মিথ্যাচারকে পুঞ্জীভূত করছে। বিদেশের সবকিছুই আমাদের জন্যে অপসংস্কৃতি, তা নয়। তবে বিদেশের কোনাে কিছুকে গ্রহণ করার আগে দেখতে হবে তা আমাদের জীবনকে সুন্দর বা উন্নত করছে কিনা, আমাদের চেতনাকে উদার কিংবা মহান করছে কিনা। যা আমাদের জীবনবােধকে পরিশীলিত করে তা অপসংস্কৃতি নয়। কিন্তু আমরা যদি ডিসকো গান, নাচ, পাশ্চাত্য মডেলের পােশাকের মােহে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ি তা হলে সেটা স্বাভাবিকভাবেই অপসংস্কৃতি হবে।

অপসংস্কৃতি অনুচ্ছেদ রচনা

অপসংস্কৃতি সংস্কৃতির নেতিবাচক রূপ সংস্কৃতি হলাে একটি জাতির স্বরূপ । আমরা বাঙালি। আমাদের রয়েছে নিজস্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। এদেশের সংস্কৃতির স্বরুপ পর্যালােচনা করলে দেখা যাবে যে, ভৌগােলিক, ভাষাগত, ধর্মীয়, সামাজিক, জীবনযাপন পদ্ধতি ইত্যাদি দিক থেকে বাংলাদেশের সংস্কৃতির একটা নিজস্ব ধরন রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে পাশ্চাত্য বিদেশি সংস্কৃতির প্রভাব বেশি অনুভূত হচ্ছে। ফলে জাতীয় সংস্কৃতি আজ সংকটাপন্ন। অপসংস্কৃতির ফলে সমাজ হয়ে ওঠে উচ্ছৃঙ্খল, অনাচারাশ্রয়ী, অপরাধপ্রবণ ও নৈতিকতা বর্জিত। অপসংস্কৃতির এই প্রভাব ছড়িয়ে পড়ছে আকাশ সংস্কৃতির মাধ্যমে। ডিশ এন্টেনার অগণিত চ্যানেলবাহিত হয়ে নানা টিভি অনুষ্ঠান ও অশালীন নাচ-গান সমাদর পাচ্ছে। এই অপসংস্কৃতি তারুণ্যকে নিয়ে যাচ্ছে অসুন্দর, কুৎসিত, অনৈতিক ও রুচিহীন কাজের দিকে। এই আগ্রাসন বা অপসংস্কৃতি থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য সমগ্র জাতির আত্মসচেতন হতে হবে এবং অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে তারুণ্যকে বেশি তৎপর হতে হবে। পাশ্চাত্য বিদেশি সংস্কৃতির কুফল সম্পর্কে তরুণদেরকে সচেষ্ট করতে হবে। পাশ্চাত্য বিদেশি সংস্কৃতির যে যে মাধ্যম দিয়ে আমাদের দেশে প্রবেশ করছে সে সকল রাস্তা বন্ধ করে দিতে হবে। আমাদের নিজ সংস্কৃতি যে কতোটা সমৃদ্ধ সে বিষয়ে তরুণদেরকে অভিহিত করতে হবে।


Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url