[৩টি] শীতের সকাল অনুচ্ছেদ (২০২৩ আপডেট)

শীতের সকাল অনুচ্ছেদ, শীতের সকাল অনুচ্ছেদ রচনা, (শীতের সকাল অনুচ্ছেদ for Class 1, 2, 3, 4, 5, 6, 7, 8, 9, 10) (শীতের সকাল অনুচ্ছেদ ১ম, ২য়, ৩য়, ৪র্থ, ৫ম, ৬ষ্ঠ, ৭ম, ৮ম, ৯ম, ১০ম শ্রেণি) (শীতের সকাল অনুচ্ছেদ pdf, বাংলা, লিখি, 100 - 150 শব্দ, লিখন, ২০২৩, ক্লাস ১০, ssc, hsc, jsc)

[৩টি] শীতের সকাল অনুচ্ছেদ (2022 আপডেট)

"শীতের সকাল অনুচ্ছেদ"

শীতকাল বলতে পৌষ ও মাঘ মাসকে বুঝানো হলেও প্রকৃতপক্ষে শীতের আগমন শুরু হয় অগ্রহায়ণ মাসের প্রথম দিকে। ঘর থেকে দু পা ফেলে বাইরে দৃষ্টি মেললেই চোখে পড়ে নিসর্গের অমৃত লহরী। তার মধ্যে শীতের সকাল অন্যতম। বাংলাদেশের ঋতুচক্রে শীত আসে রূপ ও রসের ডালি সাজিয়ে। শীতের মোহনীয় নৈসর্গিক রূপ ধরা পড়ে শিশির স্নাত সকাল বেলায়। কুয়াশার চাদরে ঢেকে থাকে চারপাশ। সূর্যিমামা মুখ লুকায় লজ্জায়, অভিমানে। ধীরে ধীরে মুখ বাড়িয়ে হাসে সোনালি সূর্য। ঘাসের ডগায় পড়ে থাকা শিশির বিন্দুতে রোদের আলো পড়ে মুক্তোর মতো চকচক করে। শীতের সকালে গ্রামে শুরু হয় পিঠা উৎসব। হিম শীতল ঠান্ডায় ভাপা, দুধপুলি, দুধচিতই, পাটিসাপটা প্রভৃতি পিঠা রসনায় আনে তৃপ্তির আস্বাদ। চাদর মুড়ি দিয়ে রোদে বসে পিঠা খাওয়ার সে কী তৃপ্তি! অন্যদিকে গৃহহীন, বস্ত্রহীন মানুষ খোঁজে একটু আশ্রয়, প্রশান্তির উষ্ণ চাদর। দরিদ্র ছেলেমেয়েরা উৎসুক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে রোদের আদরের ভরসায়। রাত্রি জেগে সকালের প্রত্যাশায়, সকাল জাগে সূর্যের স্পর্শ কামনায়।

"শীতের সকাল অনুচ্ছেদ (ক্লাস ৬ - ৭)"

পৌষের শেষের দিকে শীতের প্রকোপ তীব্র হয়ে উঠলেও ফাল্গুন মাস পর্যন্ত শীতের আমেজ থাকে। ঘরের বাইরে তাকালেই কসমস অমৃত চোখে পড়ে। শীতের সকাল তার মধ্যে অন্যতম। বাংলাদেশি ঋতুর সঙ্গে শীত আসে রূপ ও রসের খসড়া নিয়ে। শীতের আকর্ষণীয় প্রকৃতি সকালের শিশিরে ধরা দেয়। কুয়াশার চাদরে ঢেকে গেছে আশপাশের এলাকা। সূর্যিমামা লজ্জা আর অভিমানে মুখ লুকিয়ে রাখেন। সোনালী রোদ একটু মুখ তুলে হাসল। শিশিরবিন্দুতে মুক্তোর মতো সূর্য জ্বলে। এলাকায় শীতের সকালে শুরু হয় কেক উৎসব। ঠাণ্ডায় ভাপা, দুধপুলি, দুধচিতাই, পাটিসাপ্তা ইত্যাদি কেক তৃপ্তির স্বাদ নিয়ে আসে। রোদে বসে চাদর মুড়িয়ে পিঠা খাওয়ার কী তৃপ্তি! অন্যদিকে, গৃহহীন, গৃহহীন মানুষ যারা আশ্রয় চায়, শান্তির উষ্ণ কম্বল। দরিদ্র শিশুরা সূর্যাস্তের দিকে তাকিয়ে আছে। রাত জেগে সকালের প্রত্যাশায়, সকালে ঘুম থেকে উঠে সূর্য ছোঁয়ার ইচ্ছে।

"শীতের সকাল অনুচ্ছেদ (ক্লাস ৪ - ৫)"

শীতের সকাল মানে কুয়াশার চাদরে মোড়া রহস্যে ঘেরা প্রকৃতি। অনেকদিন থেকেই একটা অদম্য ইচ্ছে বুকের মাঝে মাথা কুটে মরছিল। অবশেষে সত্যি হল গত ডিসেম্বরে মামার বাড়ি গিয়ে | আমার মামার বাড়ি গ্রামে । এখানে নাকি সূর্য আবির ছড়িয়ে অস্ত যায়। মামাদের আছে খেজুর বাগান। আগের দিন রাতে মামা আমাকে বলে রেখেছিলেন তাড়াতাড়ি উঠতে। ভোর সাড়ে পাঁচটায় তিনি আমাকে ডাকলেন। কৌতূহল প্রবল ছিল বলে শীত কোনো বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি মেঠো পথ ধরে কুয়াশার চাদর সরিয়ে এগিয়ে চলেছি। ঠান্ডা বাতাস হুল ফুটিয়ে দিয়ে যাচ্ছে মাঝে মাঝে পাখিরা অনেক আগেই জেগে উঠেছে। পাতার ভেতর থেকেই কিচিরমিচির শুরু করে দিয়েছে। সূর্যের ক্ষীণ আলো মিশে যাচ্ছে কুয়াশার শরীরে। গুটিগুটি এলাম খেজুর বাগানে। কী মজা! কী মজা! খেজুর রস জ্বাল হচ্ছে। তার সুগন্ধে চারিদিক ম-ম করছে। দেখলাম কীভাবে নলেন গুড় তৈরি হয় | মামা গ্লাসে করে রস এনে দিলেন। যেন বরফগলা জল | কী ঠান্ডা । খেতে গিয়ে শরীর শিউরে উঠল | কিন্তু যেন অমৃত পান করলাম | ততক্ষণে সূর্যের দাপট একটু বেড়েছে | দূরের সব কিছু স্পষ্ট হয়ে উঠেছে | সরষের খেতে সকালের নরম রোদ পড়েছে | মনে হচ্ছে কে যেন সোনার গুঁড়ো ছড়িয়ে দিয়েছে। আমি মনের খাতায় এঁকে নিলাম একটি শীতের সকালের ছবি। এজন্যেই শীতের সকাল সবার কাছে পছন্দনীয়।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url