বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ অনুচ্ছেদ [৩টি] - (২০২৩ আপডেট)

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ অনুচ্ছেদ, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ অনুচ্ছেদ রচনা, (বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ অনুচ্ছেদ Class 1, 2, 3, 4, 5, 6, 7, 8, 9, 10) (বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ অনুচ্ছেদ ১ম, ২য়, ৩য়, ৪র্থ, ৫ম, ৬ষ্ঠ, ৭ম, ৮ম, ৯ম, ১০ম শ্রেণি) বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ অনুচ্ছেদ নিচে দেওয়া হয়েছে। 100 - 150 শব্দ, লিখন, 2023, ক্লাস ১০, jsc, ssc, hsc)

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ অনুচ্ছেদ [৩টি] - (২০২৩ আপডেট)

"বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ Class 7"

মুক্তিযুদ্ধ হচ্ছে প্রাথমিকভাবে একটি জাতি বা গোষ্ঠীর মুক্তি বা স্বাধীনতা লাভের জন্য লড়াই। এই লড়াই একটি ঔপনিবেশিক শক্তিকে উৎখাত করার জন্য হতে পারে অথবা কোন স্বৈরশাসক বা একনায়ককে ক্ষমতা থেকে উৎখাতের জন্য হতে পারে। কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র, শিক্ষক, শিল্পী-সাহিত্যিক, যুবকসহ নানা পেশার মানুষের সাথে বাঙালি সেনা, ই.পি.আর, পুলিশ, আনসারের সদস্যরা মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়। এদেশের সর্বস্তরের মানুষ নানাভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্য-সহযোগিতায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসে। পাকিস্তানি সেনা ও তাদের এদেশীয় দোসরদের অত্যাচার-নির্যাতন, নির্বিচার হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞের কারণে এ কোটি মানুষ শরণার্থী হিসেবে ভারতে আশ্রয় নেয়। মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণসহ নানাভাবে ভারত আমাদের সাহায্য-সহযোগিতা করে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বুদ্ধিজীবী, রাজনীতিক, মানবাধিকার নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিকসহ সচেতন মানুষ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে নানাভাবে সহায়তা করেন। মুক্তিযোদ্ধারা গেরিলা ও সম্মুখ যুদ্ধে হানাদারদের বিভিন্ন সেক্টরে হত্যা ও পরাজিত করতে থাকে। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে যৌথবাহিনীর প্রবল আক্রমণের মুখে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী পরাজিত হয়ে পালাতে থাকে ঢাকার দিকে। অবশেষে ১৬ই ডিসেম্বর পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ৯৩ হাজার সেনা যৌথবাহিনীর কাছে সম্পূর্ণভাবে পরাজিত হয় এবং আত্মসমপূর্ণ করে।

"বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ অনুচ্ছেদ রচনা"

আমাদের মহান নেতা, বাংলাদেশের সর্বাধিনায়ক শেখ মুজিবুর রহমানের হয়ে আমি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করছি। ১৯৭১ সালের ঐতিহাসিক মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল যে বোধ বা চেতনাকে কেন্দ্র করে তারই নাম মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। ত্রিশ লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে যে স্বাধীনতা তাকে চিরউন্নত রাখতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আমাদের প্রেরণা জোগাবে চিরদিন। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসন থেকে মুক্তি লাভ করলেও প্রকৃত মুক্তি আসেনি বাঙালি জাতির। ১৯৫২ সালে বাংলা ভাষার ওপর আঘাত, ৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ৫৮ সালে সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন, ৬৬ সালের ৬ দফা, ৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানসহ বিভিন্ন গণ-আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বিকাশ লাভ করে আমাদের স্বাধীনতা আন্দোলন। সর্বোপরি ১৯৭০ সালের জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে তৎকালীন আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও পাকিস্তানিরা ক্ষমতা হস্তান্তর করতে গড়িমসি শুরু করে। তখনই শুরু হয় স্বাধীনতা আন্দোলন। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ মধ্যরাতে নিরীহ নিরস্ত্র বাঙালির ওপর আক্রমণ চালায়। হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট, অগ্নিসংযোগসহ নানা ধরনের বর্বরতা চালায় সারাদেশ জুড়ে। তখন বাংলার মানুষ পাকিস্তানিদের অপতৎপরতা রুখে দেয়। দীর্ঘ নয় মাস ধরে যুদ্ধ চলে। অবশেষে ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করলে বাংলাদেশ বিজয় লাভ করে। ৩০ লক্ষ শহিদের প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত হয় স্বাধীনতা। বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে প্রধান পদক্ষেপগুলোর মধ্যে প্রথম হতে হবে নিরপেক্ষতা, দ্বিতীয় শান্তি এং তৃতীয় সকলের সাথে বন্ধুভাবপন্ন ও কারো সম্বন্ধে অজ্ঞানতা নয়। ─ আল্লাহ্ সহায় হোক, জয় বাংলা

"বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ অনুচ্ছেদ"

এই বিজয় অর্জিত হয়েছিল লাখো মানুষের জীবন দিয়ে। মানুষের ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে আমাদের স্বাধীনতা। এত কম সময়ে অন্য কোনো জাতি স্বাধীনতা অর্জন করতে পারেনি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রমন ঢাকার ঐতিহাসিক রেসকোর্সে জাতিকে মুক্তি সংগ্রামে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। সারা বাংলায় তোলপাড় শুরু হয়। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ ভোররাতে পাকসেনারা বাঙালিদের ওপর হামলা চালায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ইপিআর এবং রাজারবাগ পুলিশের বিভিন্ন ছাত্রাবাসে নির্বিচারে হত্যাকাণ্ড চালানো হয়। মুজিবনগর সরকার ছিল বাংলাদেশের একটি প্রবাসী সরকার যা ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল তাজউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে গঠিত হয়। মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা তৎকালীন সেনা মেজর জিয়াউর রহমান করেছিলেন, যিনি কালুর ঘাট থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের কাছে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেছিলেন। রেডিও স্টেশন, চট্টগ্রাম। তিনি বাংলার সন্তানদের মুক্তি সংগ্রামে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। পাকসেনারা ক্রমশ বেপরোয়া হয়ে ওঠে এবং নির্বিচারে হত্যা করতে থাকে। অসহায় বাঙালিরা ভারতে পালিয়ে যায়, যেখানে তারা ভারতীয়দের দলে আশ্রয় পায়। শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধের প্রশিক্ষণ। জেনারেল আতাউল গণি ওমানীর অধীনে বাংলাদেশ এগারোটি সেক্টরে বিভক্ত ছিল। মুক্তিবাহিনী, যার মধ্যে অনেক ছাত্র, মানুষ, পুলিশ অফিসার, ইপিআর, আনসার এবং সামরিক-বেসামরিক লেক অন্তর্ভুক্ত ছিল। তারা মুক্তির জন্য পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে যোগ দেয়। কিছু কিছু রাজাকার বা আলবদর বাদে দেশের সকল নাগরিক মুক্তিযুদ্ধের জন্য কাজ শুরু করে। মাত্র নয় মাসে পাকিস্তানিদের অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ে। পশ্চিম পাকিস্তানের সাথে তাদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url