বিশ্বায়ন অনুচ্ছেদ (৩টি) - (২০২৩ আপডেট)

বিশ্বায়ন অনুচ্ছেদ, বিশ্বায়ন অনুচ্ছেদ রচনা, (বিশ্বায়ন অনুচ্ছেদ Class 1, 2, 3, 4, 5, 6, 7, 8, 9, 10) (বিশ্বায়ন অনুচ্ছেদ ১ম, ২য়, ৩য়, ৪র্থ, ৫ম, ৬ষ্ঠ, ৭ম, ৮ম, ৯ম, ১০ম শ্রেণি) বিশ্বায়ন অনুচ্ছেদ নিচে দেওয়া হয়েছে। 100 - 150 শব্দ, লিখন, 2023, ক্লাস ১০, jsc, ssc, hsc)

বিশ্বায়ন অনুচ্ছেদ (৩টি) - (২০২৩ আপডেট)

"বিশ্বায়ন অনুচ্ছেদ"

বিশ্ব এখন হাতের মুঠোয়। এটি সম্ভব হয়েছে বিশ্বায়নের কারণে। রাজনীতি, অর্থনীতি, ধর্ম, জ্ঞানবিজ্ঞান প্রভৃতি ক্ষেত্রে বৈশ্বিক প্রভাবকে বলা হয় বিশ্বায়ন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাবনীয় উন্নতির ফলে পৃথিবী ছোট হয়ে এসেছে। ফলে বিশ্বগ্রাম, বিশ্ব নাগরিকত্ব, মুক্ত বাজার, মুক্ত সংস্কৃতি ইত্যাদি শব্দগুলো সবার মনেই প্রভাব ফেলছে। সবাই বিশ্বায়ন প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত হতে চলেছে। আর এভাবেই ধর্ম-বর্ণ-পেশা-লিঙ্গ-দেশ নির্বিশেষে বিশ্বের একে অন্যের খুব কাছাকাছি হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে অর্থনীতির ক্ষেত্রে বিশ্বায়ন হচ্ছে বিশ্বকে একক বাজারে পরিণত করে বিশ্বব্যাপী উৎপাদন ও বণ্টন ব্যবস্থা গড়ে তোলা। উন্নত দেশগুলো তাদের অলস পুঁজি অনুন্নত দেশগুলোতে বিনিয়োগের ফলে আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থায় কিছুটা সমতা তৈরি হবে। সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও বিশ্বায়নের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। কিন্তু সেক্ষেত্রে প্রতিটি দেশ ও জাতি তাদের নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষা করতে তৎপর হয়ে উঠেছে। তবে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বিশ্বায়নের প্রভাবে উন্নত দেশগুলো কিছুটা ফায়দা লুটবেই, আশার কথা সেক্ষেত্রেও সতর্ক হতে শুরু করেছে অনেক দেশ। শিক্ষা, শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতির বিনিময়ের মাধ্যমে অবশ্যই লাভবান হবে অনুন্নত দেশগুলো। কিন্তু কিছু কিছু দেশীয় প্রযুক্তির ক্ষেত্র ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তারপরও বাংলাদেশ গার্মেন্টসসহ আরও কিছু ক্ষেত্রে বিশ্ববাজারে প্রবেশ করে নিজস্ব অর্থনীতি মজবুত করছে। বিশ্বায়নের প্রভাব থেকে দেশকে নিতে হলে শ্রম ব্যবস্থাপনার সহযােগিতামূলক সম্পর্ক সৃষ্টি এবং সুনির্দিষ্ট কল্যাণমুখী উদ্দেশ্যে শিল্প পরিচালনা করে আমাদের দেশীয় শিল্পে দক্ষতা সৃষ্টি করতে হবে। আর তা করতে পারলে বিশ্বায়ন প্রক্রিয়াটা হবে সাফল্যমণ্ডিত।

"বিশ্বায়ন অনুচ্ছেদ Class 10"

বিশ্বায়ন, যা আজ তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ, সঙ্গত কারণেই। বিশ্বায়ন একটি বিশ্বব্যাপী উদ্যোগ যার লক্ষ্য সমগ্র বিশ্বের জন্য একটি নিরাপদ বাজার ব্যবস্থা তৈরি করা। এর মধ্যে রয়েছে বাণিজ্যের উদারীকরণ, বর্ধিত মূলধন প্রবাহ এবং পণ্যের অবাধ চলাচল। তথ্য প্রযুক্তির অগ্রগতি এবং উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে গ্লোবাল ভিলেজের চিন্তাভাবনাকে বাস্তবসম্মত হিসাবে দেখা যেতে পারে। এই প্রেক্ষাপটের কারণে বিশ্বায়ন আজ একটি বাস্তবতা। বর্তমান বিশ্বায়নের প্রধান ব্যবস্থা হচ্ছে মুক্তবাজার অর্থনীতি। GATT (শুল্ক ও বাণিজ্যের সাধারণ চুক্তি) দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্বের সর্বোচ্চ বাণিজ্য সংস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। শতাব্দীর শেষের দিকে দীর্ঘ আলোচনার পর GATT ভেঙে দেওয়া হয়। তার জায়গায় ছিল বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (WTO)। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার পৃষ্ঠপোষকতায়, মুক্ত বাণিজ্য এবং একটি মুক্ত বাজার অর্থনীতির ধারণা প্রচার করা হয়েছিল। সঙ্গত কারণে বিশ্বায়ন বাংলাদেশেও প্রভাব ফেলেছে। আলোচনা এখন উন্মুক্ত। বিশ্বায়ন বিশ্বে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। বিশ্বজুড়ে মানুষ বিশ্বায়ন সম্পর্কে আরও সচেতন হচ্ছে এবং নেতিবাচক বোধ করতে শুরু করেছে। তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোকে অর্থনৈতিকভাবে অক্ষম রাখার জন্য অনেকেই WTO এর ছত্রছায়ায় বিশ্বকে তাদের পণ্যের একটি মুক্ত বাজারের জায়গা করে তুলতে চায়। বিশ্বায়ন উন্নয়নশীল দেশগুলিতে শিল্পের জন্য ভবিষ্যতে অসম প্রতিযোগিতার দিকে পরিচালিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে। জিএসপি সুবিধা বাতিল করা হবে, এবং এর উপর নির্ভরশীল শিল্পগুলি প্রভাবিত হবে। WTO পণ্যের অবাধ প্রবাহ সত্ত্বেও অবাধ চলাচল এবং শ্রমের অবাধ প্রবাহের নিশ্চয়তা দিতে ব্যর্থ হওয়ার জন্য অভিযুক্ত। তৃতীয় বিশ্বের শ্রমশক্তির ধারণা এখন আর উন্নত বিশ্বে প্রবেশ করা সম্ভব নয়। অনেকেই বিশ্বাস করেন যে বিশ্বায়ন তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলিকে বৃহত্তর বাজারের জন্য উন্মুক্ত করবে এবং পণ্যের গুণমান উন্নত করবে।

"বিশ্বায়ন অনুচ্ছেদ Class 7"

বিশ্বায়ন একটি বিশ্বব্যাপী ক্রিয়া। যুগে যুগে বিভিন্ন রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক দর্শন মানবসমাজ এবং রাষ্ট্র সংশ্লিষ্ট জীবনধারাকে প্রভাবিত করেছে। একে অভিহিত করা হয় এমন একটি প্রক্রিয়া হিসেবে, যা রাষ্ট্র ও সম্প্রদায়ের পুরোনো কাঠামো ও সীমানা অবলুপ্ত করেছে। বিশ্বায়নকে বলা হচ্ছে একটি সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক জীবনের ক্রমবর্ধমান পরাজাতীয়করণ, যার ফলে সৃষ্টি হয়েছে এক বিশ্বসীমানা, এক বিশ্বসম্প্রদায়। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, বিশ্বায়ন কোনো একক প্রক্রিয়া নয় বরং এটি সর্বব্যাপী ও সার্বিক প্রক্রিয়া। বিশ্বায়ন রাষ্ট্রীয় সীমানার প্রাচীর ভেঙে অর্থনৈতিক মিথষ্ক্রিয়া প্রভৃতি সকলক্ষেত্রেই ব্যাপক পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। ফলে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি ও চিন্তা-চেতনা এবং বিশ্বাসের ক্ষেত্রে একটি বৈশ্বিক অবকাঠামো তৈরি হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে যে বিশ্বায়নের কথা বলা হচ্ছে তা মূলত পুঁজিবাদের সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বায়নের উপনিবেশ ছাড়া কিছু নয়। এর মাধ্যমে সম্পদশালী উন্নত দেশগুলো তৃতীয় বিশ্বের ওপর অর্থনৈতিক নয়া উপনিবেশবাদ প্রতিষ্ঠা করে পুঁজিবাদের হাতকে শক্তিশালী করতে চায়। তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর অর্থনৈতিক সংকট ও রাজনৈতিক দেউলিয়াপনার সুযোগ উন্নত দেশগুলো গ্রহণ করছে। সুতরাং তাদের উপেক্ষা করা সম্ভব না হলেও নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার প্রয়োজনে আমাদেরও সতর্ক থাকতে হবে। অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দিক থেকে আন্তর্জাতিক সমাজের সাথে তাল মিলিয়ে চলার মতো উপযোগী করে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। অপরদিকে, বিশ্বায়নের ফলে দেশীয় সংস্কৃতিতেও চলছে ব্যবস্থা।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url