দারিদ্র্য বিমোচন অনুচ্ছেদ [২টি] - (২০২৩ আপডেট)

দারিদ্র্য বিমোচন অনুচ্ছেদ,  দারিদ্র্য বিমোচন অনুচ্ছেদ রচনা, (দারিদ্র্য বিমোচন অনুচ্ছেদ Class 1, 2, 3, 4, 5, 6, 7, 8, 9, 10) ( দারিদ্র্য বিমোচন অনুচ্ছেদ ১ম, ২য়, ৩য়, ৪র্থ, ৫ম, ৬ষ্ঠ, ৭ম, ৮ম, ৯ম, ১০ম শ্রেণি) ( দারিদ্র্য বিমোচন অনুচ্ছেদ নিচে দেওয়া হয়েছে। 100 - 150 শব্দ, লিখন, 2023, ক্লাস ১০, jsc, ssc, hsc)

দারিদ্র্য বিমোচন অনুচ্ছেদ [২টি] - (২০২৩ আপডেট)

"দারিদ্র্য বিমোচন অনুচ্ছেদ - [Class 6]"

দারিদ্র্য মানবজীবনের এক অভিশপ্ত যন্ত্রণা। দারিদ্রের দুঃসহ দহনে মানুষের স্বভাবসুন্দর জীবনধারা ব্যাহত হয়ে পড়ে, দারিদ্র্যের দৌরাত্মে মানুষের স্বপ্ন ও আশা অঙ্কুরে বিনষ্ট হয়ে যায়। তাই দারিদ্র্য মানব জীবনের জন্য এক ভয়াবহ অভিশাপ। আমাদের বিদ্রোহী জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর কবিতায় ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনের দারিদ্র্যের এক ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছেন। বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ। আমাদের দেশ শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, শিল্প, বাণিজ্য, জীবনযাত্রার মানের দিক থেকে পিছিয়ে রয়েছে। আমাদের পশ্চাদপদতা দারিদ্র্যের জন্য দায়ী করা যেতে পারে বাংলাদেশের মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে। এমন সমাজে জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করা কঠিন। আমাদের দেশের এক মিলিয়ন লোক তাদের চাকরি হারিয়েছে এবং তাদের আয়ের জন্য সরকারের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে, যার ফলে আমাদের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ধ্বংস হয়েছে। বাংলাদেশ ছিল এমন একটি দেশ যেখানে জনসংখ্যা খুব দ্রুত বাড়ছিল এবং ভূমির পরিমাণ কম ছিল। বাংলাদেশে সব সময়ই খাদ্যের অভাব থাকে। নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের পর আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি কিন্তু দেশের অর্থনৈতিক কাঠামো ভেঙ্গে পড়েছে। ফলে দেশে বেকারত্বের হার প্রতিদিনই বাড়ছে। এ অবস্থায় দেশের দারিদ্র্য দূর করা কি সম্ভব? দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে এই সংস্থাটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এটি কৃষি, পল্লী উন্নয়ন এবং পরিবহন সব ক্ষেত্রে সহায়তা প্রদান করেছে। বেকারদের কর্মসংস্থানের আরও সুযোগ হবে এবং উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। দারিদ্র্য হ্রাস, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ এবং নিরক্ষরতা দূরীকরণ অত্যন্ত উপকারী হতে পারে।

"দারিদ্র্য বিমোচন অনুচ্ছেদ"

দারিদ্র্য এমন একটি অর্থনৈতিক অবস্থা, যখন একজন মানুষ জীবনযাত্রার ন্যূনতম মান অর্জনে এবং স্বল্প আয়ের কারণে জীবনধারণের অপরিহার্য দ্রব্যাদি ক্রয় করতে অক্ষম হয়। বাংলাদেশ সরকার দীর্ঘকাল ধরেই নানা কার্যক্রমের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনের প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০১০ সালের হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশের ১৭.৬% লোক দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে। আর তাই সরকার দারিদ্র বিমোচনের জন্য পল্লি উন্নয়ন কার্যক্রমে গুরুত্ব দিচ্ছে। দারিদ্র বিমোচন-সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানগুলো বহুমূখী। এদের মধ্যে পল্লি সমবায় সমিতি, ঋণদান ব্যবস্থা, সেচ ব্যবস্থা, মৎস্য ও গবাদিপশু উন্নয়ন, পল্লি এলাকার শিল্পউন্নয়ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। সম্প্রতি বাংলাদেশের অতি দরিদ্র পরিস্থিতির বেশ উন্নতি হয়েছে। দেশে হতদরিদ্রের সংখ্যা কমেছে। সাত বছরের ব্যবধানে প্রায় ৮০ লাখ হতদরিদ্র লোক অতি দারিদ্র্যসীমার ওপরে উঠেছে। বিশ্ব ব্যাংকের সর্বশেষ হিসাবে, গত অর্থবছর শেষে অতি দারিদ্র্যের হার দেশের মোট জনসংখ্যার ১২.৯ শতাংশে নেমে এসেছে। বিশ্বের ‘সর্বাধিক জনসংখ্যার ঘনত্বের’ এই দেশটি ক্ষুধা ও দারিদ্র্য হ্রাসের সংগ্রামে জাতিসংঘ ঘোষিত আটটি সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার সবচেয়ে গুরুত্ববহ প্রথম লক্ষ্যটি নির্ধারিত সময়সীমার দুই বছর আগেই অর্জন করেছে। জনসংখ্যার হার বৃদ্ধির তুলনায় উৎপাদনের পরিমাণ বাড়ালেই দারিদ্র্য বিমােচন সম্ভব হবে এবং জীবনের মান বৃদ্ধি ও জাতীয় সমৃদ্ধি সম্ভবপর হতে পারে।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url