[২টি] এসিড সন্ত্রাস অনুচ্ছেদ (২০২৩ আপডেট)

এসিড সন্ত্রাস অনুচ্ছেদ, এসিড সন্ত্রাস অনুচ্ছেদ রচনা, (এসিড সন্ত্রাস অনুচ্ছেদ for Class 1, 2, 3, 4, 5, 6, 7, 8, 9, 10) (এসিড সন্ত্রাস অনুচ্ছেদ ১ম, ২য়, ৩য়, ৪র্থ, ৫ম, ৬ষ্ঠ, ৭ম, ৮ম, ৯ম, ১০ম শ্রেণি) (এসিড সন্ত্রাস অনুচ্ছেদ pdf, বাংলা, লিখি, 100 - 150 শব্দ, লিখন, ২০২৩, ক্লাস ১০, ssc, hsc, jsc)

[২টি] এসিড সন্ত্রাস অনুচ্ছেদ (2022 আপডেট)

"এসিড সন্ত্রাস অনুচ্ছেদ রচনা"

বাংলাদেশে এসিড হামলার শিকারদের নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান এসিড সারভাইভার্স ফাউন্ডেশন এক গবেষণায় উঠে এসেছে এই তথ্য। গবেষণায় বলছে, ২০০২ সালে সবচেয়ে বেশি এসিড সন্ত্রাসের ঘটনা ঘটেছে। যার সংখ্যা ছিলো প্রায় পাঁচশোটির মতো। সন্ত্রাস এমন একটি সমস্যা যা স্থানীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিটি দেশকে প্রভাবিত করে। দেশ ও জাতি বর্বরতার ফাঁদে পড়েছে, যা আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে ভয় ও অনিশ্চয়তার সৃষ্টি করেছে। এ দেশে দুই ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড রয়েছে। বেকার বা বিপথগামী দুর্বৃত্তদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সবার আগে। তারা চাঁদাবাজি এবং ছিনতাই অপহরণ, ডাকাতি টেন্ডার বিডিং এবং অন্যান্য উপায়ে নিজেদের প্রকাশ করে। এই সন্ত্রাসী কার্যকলাপ প্রাথমিকভাবে আর্থিক সমস্যার সাথে সম্পর্কিত। দ্বিতীয়টি হল রাজনৈতিক অঙ্গনে পেশী শক্তির অশুভ কার্যকলাপ, যা ক্ষমতার ক্ষুধার্ত অপশক্তি এবং বেপরোয়া রাজনীতি দ্বারা চালিত। দুর্নীতি ও ঘুষের পাশাপাশি মাদকের বিস্তার ও চোরাচালান এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে দুর্বল করার কারণে বাংলাদেশে সন্ত্রাস বৃদ্ধি পাচ্ছে। অন্যদিকে, সন্ত্রাসীরা তাদের পেশী শক্তি ব্যবহার করে অগণতান্ত্রিক রাজনীতি থেকে নিজেদেরকে আশ্রয় দিতে সক্ষম। সন্ত্রাসীরা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার চেয়ে বেশি উন্নত এবং মারাত্মক অস্ত্র ব্যবহার করে। বাংলাদেশে চরমপন্থী মুসলিম সন্ত্রাসীদের তৎপরতার খবর পাওয়া যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বেড়েছে। 2001 সালে আমেরিকায় ওয়ার্ল্ড ট্রেড সিস্টারদের ধ্বংস, বালি, ইন্দোনেশিয়ায় হামলা, তুরস্ক ও ভারতে সন্ত্রাসী হামলা, সেইসাথে স্পেনের বাচ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের কার্যকলাপ এবং বার্মি লিবারেশন আর্মির গণহত্যার মধ্যে সন্ত্রাসের আন্তর্জাতিকীকরণ দেখা যায়। সন্ত্রাসীরা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। ফিলিস্তিনের মুক্তি আন্দোলনও সন্ত্রাসীদের আস্তানা। ফিলিস্তিনের মুক্তি আন্দোলনের সন্ত্রাসী আস্তানাও বাড়ছে। ইরাক ভিন্ন ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সাক্ষী হচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসী হয়ে উঠেছে এবং মিত্র সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে। আন্তর্জাতিক ও জাতীয় উভয় পর্যায়ে সন্ত্রাসবাদ নির্মূল করার জন্য সম্ভাব্য সব পদক্ষেপ গ্রহণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

"এসিড সন্ত্রাস অনুচ্ছেদ"

মানবসভ্যতার ক্রমবিকাশে এসিড নামক রাসায়নিক দ্রব্যের অবদান থাকলেও পৃথিবীতে এটির অপব্যবহারও রয়েছে। এক সময় বাংলাদেশে এসিড নিয়ে ভয়ানক পরিবেশ ছিল। এসিড নিক্ষেপ আমাদের সবচেয়ে নিষ্টুরতম অপরাধগুলোর মধ্যে অন্যতম। এটি একটি জঘন্য কাজ। অন্য কথায় এটি কাপুরুষোচিত আচরণের ন্যাক্কারজনক বহিঃপ্রকাশ। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের দেশে এর প্রকোপ দিনদিন বেড়ে চলেছে। এসিডের অগ্নি ছোঁয়ায় মুহুর্তের মধ্যের ঝলসে যায় মানুষের একটি সুন্দর চেহারা। এর শিকার হচ্ছে তরুনী ও গৃহ বধুরা। বিশেষ করে স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা। প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখান করলে এসব বখাটেরা এসিড নিক্ষেপ করে ঝলসে দেয় তরুণীর মুখ। এছাড়া জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ ও ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা থেকেও এসিড নিক্ষেপ করা হয়। এসিডের সহজলভ্যতা ও ব্যবহারের জটিলতা কম থাকায় প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে এসব বখাটে তরুণরা এসিডকেই বেছে নেই অস্ত্র হিসেবে। এতে করে সারাজীবনের জন্য পঙ্গু হয়ে যায় এসিড ঝলসানো মেয়েটি। এসিড নিক্ষেপ কারির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে শিথিলতা এ সন্ত্রাসের বিস্তৃতির জন্য দায়ী। যদিও এসিড অপরাধ দমনের আরো কঠোর করার জন্য সরকার প্রণোয়ন করে 'এসিড সন্ত্রাস দমন আইন ২০২১'। এই আইনে এসিড নিক্ষেপজনিত অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি নির্ধারন করা হয়েছে মৃত্যুদণ্ড এবং গঠিত হয়েছে এসিড সন্ত্রাসের জন্য পৃথক আদালত। এসিড সন্ত্রাস রোধ ও এসিড সন্ত্রাসের স্বীকাত ব্যক্তিদের পুর্ণবাসন ও যথাযথ চিকিৎসা প্রদানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেয়া উচিত। এছাড়া এর বিরুদ্ধে সামাজিক আনন্দোলন গড়ে তোলা উচিত। যেকোন মূল্যে এই সন্ত্রাস রুখতে হবে। মানুষের বিরুদ্ধে মানুষের এই দুর্বৃত্তপনা কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না। অপরাধীকে তা অপরাধকর্ম থেকে নিবৃত্ত রাখতে অপরাধের হাতিয়ার এসিডকে রাখতে হবে তাদের নাগালের বাইরে।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url