[2টি] কুটির শিল্প অনুচ্ছেদ (২০২৩ আপডেট)

কুটির শিল্প অনুচ্ছেদ, কুটির শিল্প অনুচ্ছেদ রচনা, (কুটির শিল্প অনুচ্ছেদ for Class 1, 2, 3, 4, 5, 6, 7, 8, 9, 10) (কুটির শিল্প অনুচ্ছেদ ১ম, ২য়, ৩য়, ৪র্থ, ৫ম, ৬ষ্ঠ, ৭ম, ৮ম, ৯ম, ১০ম শ্রেণি) (কুটির শিল্প অনুচ্ছেদ pdf, বাংলা, লিখি, 100 - 150 শব্দ, লিখন, ২০২৩, ক্লাস ১০, ssc, hsc, jsc)

[2টি] কুটির শিল্প অনুচ্ছেদ (2022 আপডেট)

"কুটির শিল্প অনুচ্ছেদ রচনা"

কুটির শিল্প বাংলাদেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ধারক। এক সময় এদেশের কুটির শিল্পজাত পণ্য বিশ্বজুড়ে রপ্তানি করা হত। এর উৎপত্তি গৃহ বা পরিবারকেন্দ্রিক এবং অবসর সময়ে স্বল্প অর্থ ব্যয়ে পরিচালিত। যদিও বর্তমান সময়ে অনেক কুটিরশিল্পজাত পণ্য কারখানায় উৎপাদিত হচ্ছে। এদেশের কুটিরশিল্পের অতীতের ইতিহাস অত্যন্ত গৌরবের। ইউরোপে আঠারো শতকে শিল্পবিপ্লবের আগে কুটিরশিল্পই ছিল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ভিত্তি। এদেশে ইংরেজ আমলের আগে কুটিরশিল্প বেশ সুনাম অর্জন করেছিল। ঢাকাই মসলিনের খ্যাতি ছিল সারা পৃথিবীজুড়ে। আমাদের দেশে এখনো মৃৎশিল্প, তাঁতশিল্প, অলংকার শিল্পসহ বাঁশ, বেত, কাঠ ও পিতল-কাঁসার তৈজসপত্র ইত্যাদি কুটির শিল্পজাত পণ্য উৎপাদিত হয়। এছাড়া পাটের তৈরি সামগ্রীসহ রেশম ও খাদিশিল্প উল্লেখযোগ্য কিন্তু শিল্পবিপ্লবের প্রবল আধিপত্যে কুটিরশিল্প এখন হুমকির মুখে। অ্যালুমিনিয়াম, চীনামাটি, মেলামাইনের বাসনপত্র মৃৎশিল্পকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। পিতল-কাঁসার জিনিসপত্র এখন লোকে ব্যবহার করে না। এছাড়া বিদেশি পণ্যের প্রতি মানুষের আগ্রহ এবং কলকারখানায় উৎপাদিত পণ্য দামে তুলনামূলক সস্তার কারণে মানুষ এখন কুটিরশিল্পের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। তাই কুটিরশিল্পের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার জন্য সরকার ও বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।

"কুটির শিল্প অনুচ্ছেদ"

বাংলাদেশে যেসব শিল্প সাধারণত স্বল্প মূলধন, সহজলভ্য কাঁচামাল ও অল্প সংখ্যক শ্রমিক দ্বারা নিতান্ত পারিবারিক পরিবেশে পরিচালিত হয় তাকে কুটির শিল্প বলে। এরূপ শিল্পের স্বল্প মূলধন অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পরিবারের সদস্যগণ সরবরাহ করে। এসব শিল্পে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হয় না এবং উৎপাদন কলাকৌশল প্রাচীন আমলের। এ দেশের উল্লেখযোগ্য কুটির শিল্পগুলো হলো- হস্তচালিত তাঁত শিল্প, মৃৎ শিল্প, বাঁশ ও বেত শিল্প, বিড়ি শিল্প, কাসা ও পিতল শিল্প, শঙ্খ ও ঝিনুক শিল্প প্রভৃতি। অতীতে বাংলাদেশের অনেক মানুষই কুটির শিল্পের সাথে জড়িত ছিল। কিন্তু বর্তমানে সেই রমরমা কুটির শিল্পের দিন দিন অবনতি হচ্ছে। এখনও কামার, কুমার, তাঁতি, তাম্রকার, স্বর্ণকার, শঙ্খ ব্যবসায়ীসহ অনেকে ‘কুটির’ শিল্পের সাথে যুক্ত। তথাপি বাংলাদেশে বিরাজমান কুটির শিল্পগুলো তরুণদের কর্ম-সংস্থানের সমস্যা কিছুটা হলেও প্রশমিত করছে। অধিক জনসংখ্যা ভারাক্রান্ত বাংলাদেশকে সামনে এগিয়ে নিতে হলে কুটির শিল্পের প্রয়োজনীয়তার দিকে জোর দিতে হবে। কুটির শিল্প আমাদের ঐতিহ্যের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই শিল্পের সঙ্গে আমাদের জাতীয় উন্নতি ও অবনতি জড়িত। কুটির শিল্প গ্রামীণ অর্থনীতির প্রাণ। কুটির শিল্পের মাধ্যমে বেকার সমস্যা প্রশমন ও দারিদ্র্য হ্রাস করা সম্ভব। এই ব্যাপারটি চিন্তা করে কুটির শিল্পের পুনরুত্থান ও বিস্তৃতি এখন বড়ই প্রয়োজন। তাই আমাদের উচিত কুটির শিল্পের মাধ্যমে স্বকর্মসংস্থানের উদ্যোগ গ্রহণ করে আমাদের শ্রম ও মেধার সদ্ব্যবহার করা।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url