পণপ্রথা অনুচ্ছেদ [২টি] - (২০২৩ আপডেট)

পণপ্রথা অনুচ্ছেদ, পণপ্রথা অনুচ্ছেদ রচনা, (পণপ্রথা অনুচ্ছেদ Class 1, 2, 3, 4, 5, 6, 7, 8, 9, 10) (পণপ্রথা অনুচ্ছেদ ১ম, ২য়, ৩য়, ৪র্থ, ৫ম, ৬ষ্ঠ, ৭ম, ৮ম, ৯ম, ১০ম শ্রেণি) (পণপ্রথা অনুচ্ছেদ নিচে দেওয়া হয়েছে। 100 - 150 শব্দ, লিখন, 2023, ক্লাস ১০, jsc, ssc, hsc)

পণপ্রথা অনুচ্ছেদ [২টি] - (২০২৩ আপডেট)

"পণপ্রথা  অনুচ্ছেদ রচনা "

যৌতুক প্রথা এক নির্লজ্জ মানসিকতার অপর নাম। এ প্রথার জটিল আবর্তে জড়িয়ে রয়েছে নারীসমাজ। পণপ্রথা বা যৌতুকপ্রথা বলতে এমন এক ঘৃণ্য প্রথাকে বোঝায়- যেখানে কনেপক্ষ বরপক্ষকে অর্থ প্রদান করে কন্যার বিয়ের ব্যবস্থা করে। পণ্য ক্রয় করার মতোই কন্যাপক্ষ ও বরপক্ষের মধ্যে দরকষাকষি হয়ে থাকে। সচ্ছল পরিবারের জন্য এটি সাধারণ ব্যাপার হলেও দরিদ্র পরিবারের জন্য তা নিদারুণ কষ্টের ও বিড়ম্বনার। পণপ্রথা প্রাচীনকাল থেকেই সমাজে প্রচলিত। তবে আগেকার দিনে এই প্রথার রূপ অন্য রকম ছিল। পূর্বে বরপক্ষ কন্যাকে নানারকম অলংকারে সজ্জিত করার পাশাপাশি কন্যার পিতাকে নগদ অর্থ প্রদান করত। কিন্তু কালক্রমে সেই রীতিরই উল্টো প্রয়োগ ঘটেছে। ফলে বর্তমানে কন্যাপক্ষকেই যৌতুক বা পণ দিতে হয়। যৌতুকের অভাবে অসংখ্য নারীর জীবন আজ হুমকির মুখোমুখি। নারীকে এর জন্য অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়। ১৯৮০ সালে বাংলাদেশ সরকার যৌতুকবিরোধী আইন করলেও তা মানছে না অনেকেই। ফলে যৌতুকের করালগ্রাসে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে অসংখ্য নারীর জীবন। তাই যৌতুকপ্রথা রোধ করার জন্য প্রথমত নারীশিক্ষার প্রসার ঘটিয়ে নারীকে স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এছাড়া গড়ে তুলতে হবে সামাজিক সচেতনতা। যৌতুকের কারণে নারীর দুঃখ-লাঞ্ছনা আর অপমানের চিত্র ফুটে উঠেছে রবীন্দ্রনাথের ‘হৈমন্তী’ গল্পের হৈমন্তী আর ‘দেনা-পাওনা’ গল্পের নিরুপমার চরিত্রে।

"পণপ্রথা অনুচ্ছেদ "

আভিধানিক অর্থে বিয়ের সময় বরকনেকে প্রদত্ত ধনকে বলা হয় যৌতুক। এসব কুপ্রথার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো যৌতুকপ্রথা। এ প্রথা অনুযায়ী বিয়ের সময় কন্যাপক্ষ থেকে বরপক্ষকে মোটা অঙ্কের টাকা বা নানা ধরনের উপটৌকন দিতে হয়। ক্ষেত্রবিশেষে বিয়ের পরও কন্যাপক্ষকে এর জের টানতে হয়। ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সব শ্রেণির মানুষ এ প্রথার শিকার হলেও দরিদ্র পরিবারেই এর ক্ষতির প্রভাবটা বেশি দেখা যায়। কেননা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, দরিদ্র মানুষের পক্ষে যথাযথভাবে এ যৌতুক দেওয়া সম্ভব হয় না। মূলত নিম্ন আয়ের কারণে তাদের সঞ্চয় কম থাকাতেই এমনটি হয়। তাই বিয়ের পরও যৌতুকপ্রথার কারণে নারীদের নানা ধরনের নির্যাতনের সংবাদ দেখতে পাই। অর্থনৈতিকভাবে নারীদের পরনির্ভরশীলতা ও তাদের প্রতি সমাজের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির কারণেই এ প্রথার উদ্ভব হয়েছে। এ পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন না হওয়ায় যুগ যুগ ধরে আমাদের সমাজে এ প্রথাটি টিকে আছে। নারীদের জন্য এটি যেমন অপমানজনক তেমনি মানবতার জন্যও অবমাননাকর। নারী আজ আর চার দেয়ালের ঘেরাটোপে বন্দি নেই, সমাজ-সভ্যতা নির্মাণের নানা পর্যায়ে নারীর মেধাবী অবদানে এগিয়ে চলেছে সমাজ পরিস্থিতিতে যৌতুকের মতাে ঘৃণ্যব্যবস্থা কেবল নারীর জন্যই অপমান আর লজ্জা নয়, সমাজেরই কলঙ্ক। তাই কেবল কঠোর আইন করে নয়, যৌতুক বন্ধের জন্য প্রয়ােজন মনের উদারতা, দৃষ্টিভঙ্গির প্রসারতা, সর্বোপরি নারীকে মানুষ হিসেবে মর্যাদা দেবার বিবেক।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url