পরিবেশ দূষণ অনুচ্ছেদ [৩টি] - (২০২৩ আপডেট)

পরিবেশ দূষণ অনুচ্ছেদ, পরিবেশ দূষণ অনুচ্ছেদ রচনা, (পরিবেশ দূষণ অনুচ্ছেদ Class 1, 2, 3, 4, 5, 6, 7, 8, 9, 10) (পরিবেশ দূষণ অনুচ্ছেদ ১ম, ২য়, ৩য়, ৪র্থ, ৫ম, ৬ষ্ঠ, ৭ম, ৮ম, ৯ম, ১০ম শ্রেণি) (পরিবেশ দূষণ অনুচ্ছেদ নিচে দেওয়া হয়েছে। 100 - 150 শব্দ, লিখন, 2023, ক্লাস ১০, jsc, ssc, hsc)

পরিবেশ দূষণ অনুচ্ছেদ [৩টি] - (২০২৩ আপডেট)

"পরিবেশ দূষণ অনুচ্ছেদ (Class 5)"

বিশ্বজুড়ে চার ভাগের তিন ভাগই পানি। আর পানির অপর নাম জীবন। তাই পানির অভাবের কারণে জীবন বিপন্ন হবার কথা নয়। পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হলে তাকে পরিবেশ দূষণ বলে। পরিবেশ দূষণের কারণে মানব সভ্যতা এখন মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রকৃতির বিরুদ্ধে মানুষের আগ্রাসনের শুরু থেকেই পরিবেশ দূষণ একটি সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফসল ফলাতে বা বাড়িঘর নির্মাণের জন্য বনভূমি হ্রাস করা হচ্ছে। ফলে প্রাকৃতিক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। শিল্প বিপ্লবের ফলে গড়ে উঠেছে অসংখ্য কারখানা। যানবাহন থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া বিষাক্ত গ্যাসের উৎস। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ফসল। বিভিন্ন উৎস বায়ুমণ্ডলে জড় পদার্থ নির্গত করে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে পানি ও বাতাসের চাপ বাড়ছে। মানুষের ব্যবহারের জন্য শক্তি উত্পাদন বিষাক্ত রাসায়নিক উত্পাদন হতে পারে। পারমাণবিক বোমাবর্ষণ এবং পারমাণবিক বোমা হামলায় পরিবেশ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিজেদের শক্তিশালী করতে বিশ্বের ক্ষমতাধর দেশগুলো পারমাণবিক পরীক্ষা চালিয়েছে। ফলে পরিবেশ দূষিত হয়েছে, মানব জাতির অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে পড়েছে। সুস্থ জীবনযাপন করতে হবে। তাদেরও বাসস্থান, খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ প্রয়োজন। পানিদূষণের ফলে সুপেয় পানির সংকট দেখা দেয়। ব্যবহারের ক্ষেত্রেও পানি অনুপযােগী হয়ে পড়ে। এ সংকট নিরসনে পানিদূষণের উৎস ও কারণগুলাে চিহ্নিত করে পানিদূষণমুক্ত করার জন্য প্রয়ােজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।

"পরিবেশ দূষণ অনুচ্ছেদ "

আমরা যে পরিবেশে বাস করি তা প্রতিমুহূর্তে অনবরত দূষিত হচ্ছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে কলকারখানা ও যানবাহনের সংখ্যা বাড়ছে। এগুলো বেশি পরিমাণে বিষাক্ত বাষ্প ও কার্বন মনোঅক্সাইড উৎপাদন করে বায়ু দূষণের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এমনকি আমরা যে ভূমিতে বিচরণ করি তাও ময়লা আবর্জনায় দূষিত। শিল্পবর্জ্য, বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ ও অন্যান্য ক্ষতিকর পদার্থের মাধ্যমে পানি দূষিত হয়। বন-জঙ্গল ও গাছপালা কেটে ফেলা হচ্ছে আর এভাবে পারিপার্শ্বিক ভারসাম্য বিঘ্নিত হচ্ছে। মোটরযান, উড়োজাহাজ, গৃহস্থালির যন্ত্রপাতি ইত্যাদি থেকে শব্দ হয়। এগুলো শব্দদূষণ ঘটায় যা অন্যান্য দূষণ থেকে কম ক্ষতিকর নয়। আমরা দূষণ থেকে পুরোপুরি মুক্ত না হতে পারলেও এটি ব্যাপক অংশে কমাতে ও নিয়ন্ত্রণ করতে পারি। এটি নিয়ন্ত্রণ করতে আমাদেরকে প্রয়োজনীয় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। আমি মনে করি, দূষণ কমাতে বিভিন্ন ধরনের দূষণ সম্পর্কে জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করা হলো প্রথম পদক্ষেপ। বেশি পরিমাণে বৃক্ষরোপণ বায়ু দূষণ কমানোর পূর্বশর্ত এবং কার্যকর নয়ঃনিষ্কাশন প্রণালিও রক্ষণাবেক্ষণ পানিদূষণ অনেকাংশে কমাতে পারে। সর্বাগ্রে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করা উচিত এবং রেডিও, টেলিভিশন ইত্যাদি থেকে সৃষ্ট শব্দ সহিষ্ণু মাত্রায় রাখা উচিত। সচেতন না হলে এবং প্রয়ােজনীয় পদক্ষেপ না নিলে ভয়াবহ বিপর্যয় দেখা দেবে। আমাদের মনে রাখতে হবে, পানির অপর নাম মরণ নয়, পানির অপর নাম জীবন।

"পরিবেশ দূষণ অনুচ্ছেদ রচনা"

সুপ্রাচীনকাল থেকেই মানুষ পানি ব্যবহার করে আসছে ইচ্ছেমতাে। সে সময় পানিদূষণের মতাে পরিবেশগত বিপত্তি দেখা দেয়নি কখনাে। কেননা সংশােধিত পদ্ধতিতেই পানি ব্যবহার উপযােগী ও বিশুদ্ধ থাকত। কিন্তু আধুনিক সভ্যতা বিকাশের সাথে সাথে পানিদূষণের মাত্রা দিন দিন বেড়ে চলেছে। কিন্তু আবিষ্কৃত জিনিসের অপব্যবহার ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে পরিবেশে শুরু হয়েছে দূষণ। মানুষই তার জল-মাটি-হাওয়াকে করে তুলেছে দূষিত। পরিবেশ দূষণ মূলত দুটি কারণে হয়ে থাকে। একটি হচ্ছে প্রকৃতিগত কারণ, যেমন : ঝড়-বন্যা, জলোচ্ছাস, অগ্নৎপাত, ভূমিকম্প। আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে মানুষসৃষ্ট বা কৃত্রিম, যেমন : পানিদূষণ, বায়ুদূষণ, শব্দদূষণ, তেজস্ক্রিয়দূষণ। কীটনাশক, গুঁড়ো সাবান, ঔষধপথ্য ও প্রসাধন সামগ্রী, প্লাস্টিকের ব্যবহারের ফলেও পরিবেশ দূষণ হয়ে থাকে। প্রাকৃতিকভাবে সিসা, পারদ, সালফার ডাই-অক্সাইড, কার্বন ডাই-অক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড ইত্যাদির দূষণও ঘটে থাকে। এতসব দূষণের ভয়াবহ পরিণতি নিয়ে বিশ্বব্যাপী মানুষ আজ শঙ্কিত। কেননা মানব সভ্যতার অস্তিত্বই আজ হুমকির সম্মুখীন। পরিবেশ সংরক্ষণে তাই বিশ্বের সচেতন মানুষ জেগে উঠেছে। গ্রিনহাউজ গ্যাসের পরিমাণ কীভাবে কমানো যায়, জলবায়ু মোকাবেলায় করণীয় কী, বন্যপ্রাণী ও বনজ সম্পদ রক্ষা, পানিদূষণ, বায়ুদূষণরোধে মানুষ গ্রহণ করছে নানামুখী পরিকল্পনা। পানি সম্পদের প্রাচুর্যে বাংলাদেশ সমৃদ্ধ। এখানে ভূগর্ভস্থ পানি যেমন রয়েছে তেমনি ভূপৃষ্ঠের পানিও প্রচুর। সেই সাথে রয়েছে কৃষি, শিল্প ও গৃহস্থালি কাজে পানির ব্যাপক চাহিদা। তবে জনসংখ্যা রোধ করা ও সর্বস্তরের মানুষকে পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন করা ব্যতীত পরিবেশ দূষণ রোধ করা সম্ভব নয়।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url